সেলসম্যান থেকে বিশ্বসেরা ধনী স্যাম ওয়ালটন!

স্যামের প্রথম সত্যিকার চাকরি ছিল JCPenney নামের একটি দোকানের সেলসম্যান হিসেবে। স্যামের কাজ ছিলো জিনিসপত্র বিক্রি করা এবং হিসাব লিখে রাখা।
তাঁর হাতের লেখা এতই খারাপ ছিল যে ম্যানেজার বেশিরভাগ সময় তাঁর লেখা পড়তে পারতেন না। কিন্তু তারপরও তাঁকে দোকানে রাখতে হচ্ছিল, কারণ স্যাম ছিলেন একজন অসাধারণ সেলসম্যান।
এক পর্যায়ে জে.সি পেনির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ফিল ব্লেইক তাকে ডেকে বলেন, “ওয়ালটন, তুমি যদি একজন ভালো বিক্রয় কর্মী না হতে, তাহলে আমি তোমাকে চাকরি থেকে বরখান্ত করতাম। হতে পারে তুমি শুধুমাত্র খুচরা ব্যবসায় তোমার দক্ষতার কারণে বরখাস্ত হওনি।” এ থেকে বোঝা যায় স্যামের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আদর্শ বিক্রয়কর্মীসুলভ গুণাবলী ছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ওয়ালটন নিজের পাঁচ হাজার এবং শ্বশুরের কাছ থেকে ধার করা ২০ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে বেন ফ্রাঙ্কলিন স্টোর ইজারা নেন। মূলত এটাই ছিল তার পরিচালনাধীন প্রথম স্টোর। স্যাম খুব দ্রুত শিখে ফেলেন যে উচ্চ মুনাফায় কম পণ্য বিক্রয়ের চেয়ে কম মুনাফায় বেশি পণ্য বিক্রয় করে অধিক লাভবান হওয়া যায়। ‘অধিক বিক্রয় অধিকতর মুনাফা নিশ্চিত করে’, — স্যামের এই নীতিটি পরবর্তীতে ওয়ালমার্ট চেইনের একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলে। পাঁচ বছরের মধ্যেই দ্যা বেন ফ্রাঙ্কলিন স্টোরের বার্ষিক বিক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার যার মধ্যে মুনাফার পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।

১৯৬০ সালের মধ্যে স্যামের ভ্যারাইটি স্টোরের সংখ্যা হলো দেড় ডজন। সে সময় তিনি বেন্টনভিলের একটি অফিস থেকে কোম্পানিটি পরিচালনা করতেন। আর ওইসময় ১,৮৫০ মার্কিন ডলারে নিজস্ব বিমান কেনেন স্যাম। বিমান কেনার পর স্যামের দোকান খোলার বাতিক পেয়ে বসলো। তিনি একে একে লিটল স্প্রিংডেইল, সিলোম স্প্রিংস, নিওডেসা কফিভিলে ফ্রাঙ্কলিন ফ্রাঞ্চাইজি খোলেন। প্রত্যেকটি স্টোরই ভিন্ন ভিন্ন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হতো।কঠোর পরিশ্রমের পর অবশেষে স্যাম ওয়ালটন এমন একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা খুচরা ব্যবসার চেহারাই পাল্টে দিয়েছিল। ১৯৬২ সালে প্রথম ওয়ালমার্ট স্টোর খুলতে সক্ষম হন স্যাম ওয়ালটন। এখনও এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় চেইনশপ বা সুপারস্টোর।

সবচেয়ে বড় চেইনশপ হওয়ার পাশাপাশি ওয়ালমার্ট এখনও বিশ্বের মধ্যে বিক্রি থেকে সবচেয়ে বেশি আয় (রেভিনিউ) করা কোম্পানি। ২০১৭ সালে ওয়ালমার্টের রেভিনিউ ছিলো ৪৮৬ বিলিয়ন ডলার। একই বছর স্টিভ জবস-এর অ্যাপলের আয় ছিল ২৫৫ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ওয়ালমার্টের ১১ হাজার ২৭৭টি স্টোর রয়েছে। ওয়ালমার্টে সব মিলিয়ে ২৩ লাখ লোক কাজ করেন। পৃথিবীর আর কোনও প্রাইভেট কোম্পানির এতো কর্মী নেই। প্রতিদিন গড়ে ওয়ালমার্টের স্টোরগুলোতে যত লোক পণ্য কিনতে যান, তা কানাডার মোট জনসংখ্যার (সাড়ে ৩ কোটি) চেয়ে বেশি।

১৯৮২ থেকে ১৯৯২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্যাম ওয়ালটন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। ১৯৯২ এ তাঁর মৃত্যুর পরই বিল গেটস শীর্ষ ধনীর তালিকার এক নম্বরে আসতে পেরেছিলেন।
স্যাম ওয়ালটনের জীবনী থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। জীবনে চলার পথে তার সবকিছুই আমাদের অনেক কিছু শিক্ষা দেয়।

শেয়ার করুন:

Facebook
Twitter
Pinterest
LinkedIn

সম্পর্কিত পোস্ট

দেড়শ নারীকে স্বাবলম্বী করছেন ফেরদৌসি পারভীন!

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নারীদের একটা অংশ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু পুঁজির অভাবে অনেকেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারছে না। থামি. পিননসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রস্তুত করতে

উদ্যোক্তাদের জন্য মানসিক চাপ কমানোর কিছু পন্থা

আমরা আজকে উদ্যোক্তাদের জন্য আলোচনা করবো মানসিক চাপ কমানোর পন্থা নিয়ে কারন উদ্যোক্তারা অনেকেই মানসিক চাপ নিয়ে তার উদ্যোগ কে সফলার দিকে নিয়ে যেতে পারে

বাড়ির ছাদে ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী রায়হান!

‘পরিবারে কোনো আর্থিক অনটন ছিল না। পড়েছি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাই আমার মতো ছেলে কেন ছাগল পালন করবে, এটাই ছিল মানুষের আপত্তির কারণ। কিন্তু মানুষের সেসব