লোনের টাকায় ব্যবসা করলে ঝুঁকি ও দুঃশ্চিন্তা বাড়াই!

অনেকেই এই বিশ্বাস ধারণ করেন যে ব্যবসার জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা অর্থ। তাদের ধারণা ব্যবসার কোন উদ্যোগ সফল হয় না যদি না পর্যাপ্ত অর্থ না থাকে। এখন প্রশ্ন হল কি পরিমান অর্থ থাকলে পর্যাপ্ত অর্থ বলা হবে। সাধারণ একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর দেয়ার জন্য কয়েক লক্ষ থেকে কয়েক কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। যেমন ধরুণ, সাধারণ মহল্লার ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে আমেরিকার অ্যামাজনের ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। বিস্তর ফারাক দুই ধরনের স্টোর এর। একই সাথে আমরা দেখতে পাই ধনীদের সব সন্তানরা ব্যবসায়ী হন না।

অন্যভাবে বলা যায়, পর্যাপ্ত অর্থ থাকার পরেও ব্যবসা করার সাহস দেখান না। এর কারণ দক্ষতা আর বিশ্বস্ততার অভাব। সবাইকে মানুষ বিশ্বাস করে না আবার সব মানুষ দক্ষও নয়। দক্ষতা আর বিশ্বাস দিয়ে সুনাম অর্জন করা যায়। ব্যবসায়ের এক অদৃশ্য সম্পদ হল সুনাম। যার জন্য সরাসরি অর্থ বিনিয়োগ করতে হয় না, তবে অর্জন করা যায় অনেক বেশি অর্থ।

ব্যবসা করার জন্য সাহসী, দক্ষ আর বিশ্বস্ত হতে হয়। যারা বিশ্বস্ত নয় তাদের সাহস আর দক্ষতা থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে সফল ব্যবসায়ী হতে পারে না। যাইহোক, ব্যবসায় যে ধন-সম্পদ বাড়ে সে বিষয় একমত না হয়ে থাকা যাবে না।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মতিঝিলের সাধারণ এক চা ব্যবসায়ী দৈনিক তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট লাভ করেন অর্থাৎ মাসে প্রায় ৭৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা লাভ করেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে একজন ছাত্র চাকরী নেন ১৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেতনে! একজন চাকুরিজীবীর বেতন যেভাবে বাড়ে একজন ছোট ব্যবসায়ীর আয় তার চেয়ে বেশি বাড়ে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা হল একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়তো সরকারের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসাবে সচিব পদে আসীন হবেন, কিন্তু তার সন্তানকে আবার বিসিএস পরীক্ষায় প্রতিযোগিতা করেই চাকরির প্রাথমিক পদ পেতে হবে। অথচ ব্যবসায়ীর সন্তান শুরুই করবেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসাবে। অর্থাৎ একদিকে বাবার যেখানে শেষ সন্তানের সেখানে শুরু, অন্যদিকে বাবা ও সন্তান উভয়ই শুরু করেন প্রাথমিক অবস্থা থেকে।

বিপরীতদিকে আমরা বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকালে দেখতে পাই যে তাদের বাৎসরিক বাজেটের পরিমাণ অনেক ছোট রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি। এতক্ষণে নিশ্চয় প্রমাণ হয়ে গেছে যে ব্যবসায় ধন-সম্পদ বাড়ে।

অপরদিকে কেউ যখন ঋণের উপর নির্ভরশীল হয়ে ব্যবসায় করে তখন তাকে আয় হউক বা না হউক ঋণের বিপরীতে সুদ দিতেই হবে। অর্থাৎ অনিশ্চিত ব্যবসায়ের বিপরিতে নিশ্চিত দায় মাথায় নিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করতে হবে।

একইভাবে এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার এক একক মালিকানা ব্যবসায়ীর মোট সম্পদ হল ১৮ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা আর ব্যাংক লোন সহ দায় ১৮ কোটি ৭ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ তার মূলধন হল ৪৯ লক্ষ টাকা মাত্র। ৪৯ লক্ষ টাকা মূলধন নিয়ে ১৮ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকার ব্যবসায় পরিচালনা করছে। সে মূলত অনেক পরিশ্রম আর চিন্তা করছে দায়ের বিপরীতে সুদ সহ অন্যান্য খরচ পরিশোধ করার জন্য। এ এক অন্নরকম মানুষিক যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

অন্য আরেক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু কিছু মানুষ আছেন যারা ঋণ নেয়াকে অহংকারের বিষয়ে পরিণত করেছেন এবং লোক মুখে এই বলে প্রচার করে বেড়ান যে আমার পাঁচ কোটি আমার ১০ কোটি টাকা লোন আছে ইত্যাদি। মূলত অহংকারের ঋণ অতিরিক্ত চিন্তার কারণ হয়ে যায় কয়েক বছরের মধ্যে। এথেকে আমরা বলতে পারি যে, ব্যবসায় ধন-সম্পদ বাড়ে ঋণে নয়।

তথ্যসুত্র: ব্লগ বিডি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

শেয়ার করুন:

Facebook
Twitter
Pinterest
LinkedIn

সম্পর্কিত পোস্ট

দেড়শ নারীকে স্বাবলম্বী করছেন ফেরদৌসি পারভীন!

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নারীদের একটা অংশ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু পুঁজির অভাবে অনেকেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারছে না। থামি. পিননসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রস্তুত করতে

উদ্যোক্তাদের জন্য মানসিক চাপ কমানোর কিছু পন্থা

আমরা আজকে উদ্যোক্তাদের জন্য আলোচনা করবো মানসিক চাপ কমানোর পন্থা নিয়ে কারন উদ্যোক্তারা অনেকেই মানসিক চাপ নিয়ে তার উদ্যোগ কে সফলার দিকে নিয়ে যেতে পারে

বাড়ির ছাদে ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী রায়হান!

‘পরিবারে কোনো আর্থিক অনটন ছিল না। পড়েছি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাই আমার মতো ছেলে কেন ছাগল পালন করবে, এটাই ছিল মানুষের আপত্তির কারণ। কিন্তু মানুষের সেসব