প্রতিষ্ঠান সুদের ব্যবসা করলে বেতন হারাম!

প্রশ্ন : আমি একটি এনজিওতে চাকরি করি। প্রতি মাসে যে বেতন পাই, সেটা আমার পারিশ্রমিক। আমার প্রশ্ন হলো, প্রতিষ্ঠান যদি সুদে লেনদেন করে, তাহলে আমার এ বেতন কি হালাল নয়?

উত্তর : এটা আপনার পারিশ্রমিক, তা ঠিক আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এ পারিশ্রমিক আপনি কী কাজের বিনিময়ে নিচ্ছেন? যদি এটি সুদভিত্তিক কোনো প্রতিষ্ঠান হয়, সম্পূর্ণ কাজটাই যদি তাদের সুদভিত্তিক হয়, তাহলে আপনার উপার্জন হারাম হবে। সুদকে আল্লাহতায়ালা হারাম করেছেন। ইসলামে এটি একটি নিষিদ্ধ বিষয়। যদি এ সুদের লেনদেনে আপনি নিজেও একজন অংশীদার হন, তাহলে আপনার এ উপার্জন হারাম হবে এবং আপনি গুনাহগার হবেন। যেহেতু আপনি সুদের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন।

কিন্তু যদি আপনার কাজটা এমন হয় যে, আপনার কাজের সঙ্গে সুদের কোনো সম্পর্ক নেই। অফিসে যে কাজ আছে, সে কাজ সুদ সম্পৃক্ত নয়। অথচ ব্যাংকের বা অফিসের অন্যান্য লেনদেনের সঙ্গে কিছু সুদ থাকলেও সেটা আপনার বিষয় নয়। সে ক্ষেত্রে আপনার এই বেতনটা জায়েজ হবে, হারাম হবে না। আপনি বেতন নিতে পারবেন, যেহেতু সরাসরি সুদের সঙ্গে আপনার কাজের কোনো সম্পর্ক নেই।

তাহলে মূলনীতি কী? মূলনীতিটা হলো, কোনো ব্যক্তি যদি এমন কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে, যে কাজটি সরাসরি সুদের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাহলে তার উপার্জন এবং সুদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য তার এই কাজ—দুটিই হারাম হবে। কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি সরাসরি এমন কোনো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন, যে কাজের সঙ্গে সরাসরি সুদের কোনো সম্পর্ক নেই বা যে কাজের মধ্যে সুদ সরাসরি কোনোভাবে আসে না, সে প্রতিষ্ঠানের যদি সুদের সঙ্গে অন্য কোনোভাবে সম্পৃক্ততা থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির উপার্জন হারাম হবে না; বরং জায়েজ হবে। এ ক্ষেত্রে তার চাকরি করাটাও জায়েজ হবে।

তথ্যসূত্র: এনটিভি বিডি ডটকম।

শেয়ার করুন:

Facebook
Twitter
Pinterest
LinkedIn

সম্পর্কিত পোস্ট

দেড়শ নারীকে স্বাবলম্বী করছেন ফেরদৌসি পারভীন!

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নারীদের একটা অংশ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু পুঁজির অভাবে অনেকেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারছে না। থামি. পিননসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রস্তুত করতে

উদ্যোক্তাদের জন্য মানসিক চাপ কমানোর কিছু পন্থা

আমরা আজকে উদ্যোক্তাদের জন্য আলোচনা করবো মানসিক চাপ কমানোর পন্থা নিয়ে কারন উদ্যোক্তারা অনেকেই মানসিক চাপ নিয়ে তার উদ্যোগ কে সফলার দিকে নিয়ে যেতে পারে

বাড়ির ছাদে ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী রায়হান!

‘পরিবারে কোনো আর্থিক অনটন ছিল না। পড়েছি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাই আমার মতো ছেলে কেন ছাগল পালন করবে, এটাই ছিল মানুষের আপত্তির কারণ। কিন্তু মানুষের সেসব