কুকুরের খামারে স্বপ্ন দেখছে একান্নবর্তী পরিবার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় কুকুরের খামার করে স্বপ্ন দেখছে একান্নবর্তী একটি পরিবার। প্রায় দুই বছর ধরে পরিবারটি বাণিজ্যিকভাবে কুকুর লালন-পালন ও মোটাতাজাকরণ করে আসছে। মির্জাপুরের মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয় ও পুলিশ প্রশিক্ষণকেন্দ্রের অদূরে মহেড়া-নাটিয়াপাড়া সড়কের উত্তর পাশে খামারটির অবস্থান। ওই এলাকার দিলীপ কুমার সাহা খামারটির মালিক হলেও তাঁর ছোট ভাই গৌতম সাহা, ছেলে বিবেক সাহা ও ভাতিজা রাতুল সাহা খামারটির দেখভাল করেন।

গৌতম সাহা জানান, তাঁর ভাই দিলীপ কুমার ভারত-থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ ঘুরেছেন। ভাতিজা বিবেকও বিভিন্ন দেশ ঘুরেছেন। সেসব দেশের শৌখিন মানুষেরা কুকুর পালন করেন। এ ছাড়া ঢাকার গুলশান, বনানীসহ অভিজাত এলাকায়ও কুকুর পালতে দেখা যায়। সেই থেকেই তাঁদের কুকুরের খামার করার ইচ্ছা জাগে।

গৌতম সাহা বলেন, শখের বসে প্রথমে দুটি কুকুর কিনে পালন করা শুরু করেন বিবেক। এরপর তাঁরা বাণিজ্যিকভাবে কুকুর পালনের চিন্তা করেন। সিদ্ধান্ত নেন বিভিন্ন প্রজাতির কুকুর লালন-পালন ও প্রজননের ব্যবস্থা করবেন। এমন ভাবনা থেকেই বাড়ির পাশে ২০ শতাংশ জায়গা খামারের জন্য প্রস্তুত করেন।

গৌতম সাহা আরও বলেন, খামারে গার্ডি, ফ্যামিলি ও টয় ডগ প্রকল্পে ৭৫টি কুকুর আছে। এর মধ্যে টয় বিডের কুকুর শৌখিন মানুষেরা পোষেন। গার্ডি কুকুর শিল্পাঞ্চল বা বাসাবাড়িতে গার্ড হিসেবে রাখা হয়। তাঁদের খামারে টিভিডিয়ান মার্চিভ, ডগার জেন্টিনা, টুবারমেন, রোড হুইলারসহ বিভিন্ন প্রজাতির গার্ডি কুকুর আছে। ফ্যামিলি ডগের মধ্যে আছে ল্যাবরাডোর, গোল্ডেন ইলিবার, সেন্ট বার্না। টয় বিটের মধ্যে ভেসন ফ্রাই, পুডল, ওয়াইট এরিয়া প্রজাতির কুকুর আছে। তিন প্রজাতির মধ্যে গার্ডি ও ফ্যামিলি ডগের গ্রাহক বেশি। ঢাকা, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় কুকুর বিক্রি হচ্ছে।

দিলিপ সাহার ছেলে বিবেকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অভিষেক শর্মা। দিল্লি থেকে তিনি বাংলাদেশে কুকুরের খামার দেখভাল করতে এসেছেন। তিনি কুকুরের টিকাদান, গোসল করানো, নিয়মিত খাবার পরিবেশন করেন। গরম ও শীতে কুকুর কীভাবে থাকবে তার পরিচর্যা করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা এক জোড়া কুকুর ৪০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকায় কিনেছেন। খামারে কাউজিয়া ম্যাদার্ব, আলাবার সেন্ট্রাল, রাশিয়ান সামায়েল, তিব্বতি স্যাস্টিট, পেটবোল ও জার্মান শেফার্ড প্রজাতির কুকুরও আছে।

কুকুরের খাবার হিসেবে প্রতিদিন মিষ্টিকুমড়া, মুরগি ও ভাত দেওয়া হয়। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৮ কেজি মুরগি, দুটি মিষ্টিকুমড়া ও ভাত রান্না করে কুকুরকে দিনে দুবার খাওয়ানো হয়। এতে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। শ্রমিকের মজুরিসহ ব্যয় হয় চার হাজার টাকা। জন্মের পর থেকে বিক্রির উপযোগী করতে একটি কুকুরকে গড়ে ছয় মাস পালতে হয়। কুকুরগুলো ২০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

ভাতিজা রাতুল সাহা বলেন, ‘খামারটি আমরাই সুন্দরভাবে পরিচালনা করছি। প্রতিদিন খামার সুন্দরভাবে পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। আমরা খামারকে ঘিরে ভবিষ্যতের সুন্দর স্বপ্ন দেখছি।’

এ বিষয়ে মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার বলেন, তাঁদের উদ্যোগটি সুন্দর। তবে খামার থেকে যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। দেশে পোষা কুকুরের চাহিদা আছে। প্রজননের মাধ্যমে কুকুর উৎপাদন করে পোষা প্রাণী হিসেবে বিক্রি করতে পারলে পরিবারটি বেশ লাভবান হবে। এ ছাড়া মির্জাপুর ও টাঙ্গাইল উন্নয়নশীল এলাকা। এখানে পোষা প্রাণীর চাহিদা আছে। সরেজমিনে খামারটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন:

Facebook
Twitter
Pinterest
LinkedIn

সম্পর্কিত পোস্ট

দেড়শ নারীকে স্বাবলম্বী করছেন ফেরদৌসি পারভীন!

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নারীদের একটা অংশ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু পুঁজির অভাবে অনেকেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারছে না। থামি. পিননসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রস্তুত করতে

উদ্যোক্তাদের জন্য মানসিক চাপ কমানোর কিছু পন্থা

আমরা আজকে উদ্যোক্তাদের জন্য আলোচনা করবো মানসিক চাপ কমানোর পন্থা নিয়ে কারন উদ্যোক্তারা অনেকেই মানসিক চাপ নিয়ে তার উদ্যোগ কে সফলার দিকে নিয়ে যেতে পারে

বাড়ির ছাদে ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী রায়হান!

‘পরিবারে কোনো আর্থিক অনটন ছিল না। পড়েছি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাই আমার মতো ছেলে কেন ছাগল পালন করবে, এটাই ছিল মানুষের আপত্তির কারণ। কিন্তু মানুষের সেসব